অনলাইন ডেস্ক : ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। জেনেভায় জাতিসংঘ সনদের রক্ষক দেশগুলোর উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রি লিউবিনস্কি এই দাবি জানান।
গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সশস্ত্র অভিযানের সময় মাদুরোকে সস্ত্রীক অপহরণ করা হয়। এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে মস্কো। রাশিয়া ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সকল বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
লিউবিনস্কি জানান, ভেনেজুয়েলার ওপর কয়েক দশকের একতরফা নিষেধাজ্ঞা এখন আরও জটিল রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে দেশটির তেল রপ্তানি চ্যানেলগুলো জোরপূর্বক যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মাদক পাচার দমনের অজুহাতে ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিনীদের জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য বিচারবহির্ভূত প্রতিহিংসা’ বলে উল্লেখ করেছে রাশিয়া।
লিউবিনস্কি বলেন, ‘আমরা ওয়াশিংটনকে অবিলম্বে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানাই। ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করা আন্তর্জাতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।’
গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কারাকাসের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই অভিযানের সময় মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ৫ জানুয়ারি নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে তাদের হাজির করা হয়, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মাদুরো ও তার স্ত্রী উভয়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে যে অন্তর্বর্তী সময়ে ওয়াশিংটনই ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা করবে। সূত্র: তাস।

