অনলাইন ডেস্ক : যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিসে’-এর প্রথম বৈঠক শুরু হচ্ছে আজ। এই বৈঠকে গাজা উপত্যকার ভবিষ্যত ও অমীমাংসিত প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করবেন ৪৫ দেশের প্রতিনিধিরা৷
বৃহস্পতিবার ( ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সভাপতিত্বে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্প এরইমধ্যে জানিয়েছেন, তিনি কয়েকশ কোটি ডলারের মানবিক ও পুনর্গঠন সহায়তা উপস্থাপন করবেন৷ গাজার জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী-আইএসএফ গঠনের ব্যাপারেও প্রস্তাব উপস্থাপন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি৷
বোর্ডটি আগামী কয়েক সপ্তাহে গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত জনগণের জন্য মানবিক সহায়তার প্রবাহ, পুনর্গঠন তহবিলের পরিমাণ এবং হামাস যোদ্ধাদের নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কার্যকারিতা যাচাই করবে।
ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামে নামকরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইনস্টিটিউটে উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশে ট্রাম্প বক্তব্য দেবেন। তিনি ঘোষণা করবেন, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো গাজা পুনর্গঠন তহবিলের জন্য ৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে।
এই ৫ বিলিয়ন ডলারের তহবিলকে প্রাথমিক কিস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও বহু বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হতে পারে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই তহবিলের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত প্রতিটি ১.২ বিলিয়ন ডলার প্রদান করবে।
মূলত, এই পিস অব বোর্ড গঠনের বিষয়টি ট্রাম্পের গাজা যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনার অংশ, যা গত বছরের অক্টোবরে প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিবিদদের নিয়ে গঠিত সংস্থা গাজা পরিচালনা করবে। আর এই বোর্ড একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেই শাসনব্যবস্থা তদারকি করবে।
এটি গত বছর গাজা যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টায় জন্ম নেওয়া এই ধারণা, যা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছিল, এখন আরও বৃহত্তর, মহাকায় এবং বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে এগোচ্ছে। আর সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
জানা যাচ্ছে, ট্রাম্পের এই বোর্ডে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে ইতিমধ্যেই কয়েক ডজন বিশ্ব নেতাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন- অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ, ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, সাইপ্রিয়ট রাষ্ট্রপতি নিকোস ক্রিস্টোডুলিডেস, মিশরীয় রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি, ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন, গ্রীক প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিস, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান, পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি, পোলিশ প্রেসিডেন্ট ক্যারল নওরোকি, রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন, তুর্কি রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।
এই সংস্থার ফাঁস হওয়া খসড়া সনদের তথ্যে দেখা যায়, ট্রাম্প পদ ছাড়ার পরও আজীবনের জন্য বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন। ওই সনদ অনুযায়ী তার ক্ষমতা হবে ব্যাপক—কোনো দেশকে সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হবে বা হবে না, উপ-সংস্থা বা সহায়ক সংস্থা গঠন বা বিলুপ্ত করা, এমনকি তিনি যখন ইচ্ছা পদত্যাগ করলে কিংবা অক্ষম হলে নিজ উত্তরসূরি নিয়োগের ক্ষমতাও থাকবে তার হাতে।
অন্য কোনো দেশ যদি স্থায়ী সদস্য হতে চায়, তার মূল্য ধরা হয়েছে চোখ কপালে তোলার মতো—১০০ কোটি ডলার।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, বোর্ডে যোগদানের বাধ্যবাধকতা নেই – তবে যারা কেবল তিন বছরের সদস্যপদ থাকার পরিবর্তে স্থায়ী সদস্য হতে চান, তাদেরকে এক বিলিয়ন ডলার ফি দিতে হবে। এই অর্থ গাজার পুনর্গঠনে তহবিল যোগাতে সহায়তা করবে।
বহু দেশ এতে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে কানাডা, যুক্তরাজ্য, নরওয়েসহ অনেক দেশই এই পিস বোর্ডে যোগদানে ট্রাম্পের আহ্বানে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া দেয়নি।
এদিকে ধারণা করা হচ্ছে, গাজার বাইরের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বোর্ডের ভূমিকা ভবিষ্যতে গুরুত্ব পেতে পারে। এতে বৈশ্বিক কূটনীতি ও সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘের প্রভাব দুর্বল হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি

