অনলাইন ডেস্ক : মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে আবারও ‘শাটডাউন’-এর মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এর আগে গত অক্টোবরে একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল। এবারও মূল কারণ হয়েছে তহবিল বরাদ্দ–সংক্রান্ত আইন পাসে জটিলতা ও বিলম্ব।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, সরকারি বিভিন্ন খাতের জন্য প্রস্তাবিত অর্থ বরাদ্দের প্যাকেজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কংগ্রেসে পাস না হওয়ায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুযায়ী, কোনো বিল কার্যকর হতে হলে তা কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস—উভয় কক্ষে পাস হয়ে পরে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর পেতে হয়।
এই অর্থবছরের বরাদ্দ বিল প্রেসিডেন্টের দপ্তরে পাঠানোর শেষ সময় ছিল স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১২টা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিলটি কেবল সিনেটে পাস হয়; প্রতিনিধি পরিষদে পৌঁছাতেই পারেনি। ফলে সরকারের প্রতিশ্রুত তহবিল আটকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং কার্যত শাটডাউন পরিস্থিতি শুরু হয়।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে সাম্প্রতিক এক ঘটনা। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অ্যালেক্স প্রিটি নামের এক মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এ ইস্যুতে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতপার্থক্য আরও গভীর হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পরই অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এরপর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নেতৃত্বে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নেন তিনি, যা ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
রাজনৈতিক সমীকরণও এ অচলাবস্থার একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিনেটে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আসন বেশি। ফলে বরাদ্দ বিল পাসে সমঝোতা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিনেটে বিল পাস হওয়ার পর বিরোধীদলীয় নেতা চাক শুমার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাড়তি বাজেট প্রত্যাহার না করা হলে প্রতিনিধি পরিষদে বিলের অগ্রগতি তারা কঠিন করে তুলবেন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই দুই দলের মধ্যে সমঝোতার পথ তৈরি হতে পারে এবং আগামী সপ্তাহে বিল পাসের মাধ্যমে শাটডাউন পরিস্থিতি কাটতে পারে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুত অর্থ বরাদ্দ বন্ধ হয়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রে সেটিকে ‘গভর্নমেন্ট শাটডাউন’ বলা হয়। দেশটির ইতিহাসে এ পর্যন্ত অন্তত ১৮ বার এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান

