অনলাইন ডেস্ক : লাতিন আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে ওয়াশিংটনের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরাসরি হুঁশিয়ারি দিতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তার বার্তা স্পষ্ট—চাওয়া পূরণ না হলে তাকেও সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর মতোই পরিণতি ভোগ করতে হবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক–বিষয়ক কমিটির সামনে বক্তব্য দেবেন মার্কো রুবিও। তার বক্তব্যের একটি খসড়া বার্তা সংস্থা এএফপি হাতে পেয়েছে। সেখানেই দেলসি রদ্রিগেজের প্রতি এই কঠোর হুঁশিয়ারির কথা উল্লেখ রয়েছে।
রুবিও কমিটিকে বলতে যাচ্ছেন, ‘দেলসি রদ্রিগেজ, যিনি আগে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট, মাদুরোর পরিণতি সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন।’
রুবিওর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে দেলসি রদ্রিগেজের ব্যক্তিগত স্বার্থই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার ভাষায়, ‘আমাদের বিশ্বাস, তার ব্যক্তিগত স্বার্থ আমাদের প্রধান লক্ষ্যগুলো এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গেই যুক্ত।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য উদ্ধৃত করে রুবিও বলেন, ‘ভুল করবেন না—প্রেসিডেন্ট যেমনটি বলেছেন, অন্য সব কৌশল ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে আমরা প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করতেও প্রস্তুত।’
সাবেক সিনেটর মার্কো রুবিও ডেমোক্র্যাটদের চাপের মুখে এই শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন আইনপ্রণেতাদের বিভ্রান্ত করেছে এবং ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি প্রাণঘাতী সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই অভিযানে দেশটির বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়।
বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় মাদুরো দম্পতিকে নিউইয়র্কের একটি আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হলেও তাঁরা তা অস্বীকার করেছেন।
সিনেট কমিটিতে প্রস্তুত বক্তব্যে মার্কো রুবিও এই অভিযানের পক্ষে জোরালো সাফাই গেয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র দুজন মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।’
তিনি নিকোলা মাদুরোকে ‘আইনসম্মত রাষ্ট্রপ্রধান নয়, বরং অভিযুক্ত একজন মাদক কারবারি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
রুবিও আরও বলেন, ‘কোনো মার্কিন নাগরিকের প্রাণহানি কিংবা সামরিক দখলদারত্ব ছাড়াই এই অভিযান সম্পন্ন হয়েছে। ইতিহাসে এমন নজির খুব কমই আছে, যেখানে অল্প বিনিয়োগে এত বড় সাফল্য অর্জন করা গেছে।’
তবে ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন অভিযানের সময় প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে রক্ষা করতে গিয়ে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি কিউবার নাগরিকও রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ মাদুরোকে বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
মাদুরো আটক হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন দেলসি রদ্রিগেজ। তিনি ছিলেন মাদুরোর সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশা, দেলসি রদ্রিগেজ মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নেবেন।

