অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। সারা শহরজুড়ে সাধারণ দিনের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই; জনমনে আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তার আবহ বিরাজ করছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, তবুও নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। খোলা থাকা দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
কারাকাসের কেন্দ্রীয় বাজার কুইন্তা ক্রেস্পোতে অনেক ব্যবসায়ী অস্থিরতা ও লুটপাটের আশঙ্কায় দোকান বন্ধ রেখেছেন। হামলার পর প্রাণবন্ত শপিংমলগুলোও অনেকটাই ফাঁকা। বিক্রি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ। এছাড়া অনেক কর্মী জনপরিবহণ এড়িয়ে ট্যাক্সিতে কাজে যাচ্ছেন। নিরাপত্তা বজায় রাখতে বলিভারিয়ান ন্যাশনাল পুলিশ শহরে টহল দিচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কার্লোস গদয় বলেন, “দেশে যে পরিস্থিতি তাতে আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। কী হয় দেখছি, তাই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনছি।” তিনি আরও জানিয়েছেন, অনেক পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এক কেজি গুঁড়া দুধ বিক্রি হচ্ছে ১৬ ডলারে।
অন্য ক্রেতা বেত্সেরপা রামিরেজ উল্লেখ করেন, “আতঙ্কিত না হলেও খাদ্য নয়, স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রীর দাম বেড়েছে।” মোবাইল ফোনের দোকানের কর্মী আলেহান্দ্রা আরিসমেন্দি জানিয়েছেন, ডিমের দাম অতিরিক্ত বেড়ে এক কার্টন ১০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
গত এক দশকে ভেনেজুয়েলায় মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের জন্য দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দায়ী হিসেবে দেখানো হয়। সাম্প্রতিক হামলার পর ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
গত শুক্রবার মধ্যরাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কারাকাসসহ আরাগুয়া, মিরান্ডা ও লা গুয়াইরার সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এই হামলায় অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন। সামরিক অভিযান কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শেষ হলেও, ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে দাবি পূরণ না হলে দ্বিতীয় ধাপের হামলাও হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষ অস্থিরতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। স্বাভাবিক জীবন ফিরে আসবে নাকি আরও অস্থিরতা অপেক্ষা করছে, তা এখনও অনিশ্চিত। নাগরিকরা আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন, দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের কারণে।
তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা

