অনলাইন ডেস্ক : জাপানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক অধ্যায় উন্মোচিত হতে চলেছে। দেশটির রাজনীতিতে বহু দশক পর এমন এক মুহূর্ত এসেছে, যখন নেতৃত্বের আসনে উঠতে যাচ্ছেন একজন নারী। তিনি সানায়ে তাকাইচি—বর্তমান ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নবনির্বাচিত নেতা।
সর্বশেষ রাজনৈতিক সমঝোতা অনুযায়ী, এলডিপি ও প্রধান বিরোধী দল জাপান ইনোভেশন পার্টি (জেআইপি) একত্রে নতুন জোট সরকার গঠনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই জোট গঠন বাস্তবায়িত হলে তাকাইচি জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
আজ রবিবার (১৯ অক্টোবর) জাপানের কিয়োদো নিউজ নিশ্চিত করেছে যে এলডিপি ও জেআইপি আগামীকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে জোট গঠনের চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দুই দল রাজনৈতিক অচলাবস্থা ভাঙতে এবং স্থিতিশীল সরকার পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়েছে। এলডিপির নেতৃত্বে থাকা সানায়ে তাকাইচি ইতোমধ্যেই দলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু পূর্ববর্তী জোট সরকার ভেঙে পড়ায় তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা সাময়িকভাবে থেমে গিয়েছিল। এখন নতুন জোট চুক্তি তাঁকে আবার সেই পথেই ফিরিয়ে আনছে।
কিয়োদো নিউজ ও ইয়োমিউরি শিমবুনসহ জাপানের প্রধান গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এলডিপি নেতা তাকাইচি এবং জেআইপি (ইশিন) প্রধান হিরোফুমি ইয়োশিমুরা সোমবার এক যৌথ বৈঠকে বসবেন। ওই বৈঠকে তাঁরা নতুন জোট সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই জোটের ফলে তাকাইচির প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরদার হয়েছে।
তাকাইচি এ মাসের শুরুতে এলডিপির নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন। তবে তাঁর নেতৃত্বে থাকা আগের জোট সরকার ভেঙে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন তখনই ম্লান হয়ে পড়েছিল। এলডিপির দীর্ঘদিনের সহযোগী দল কোমেইতো ২৬ বছর পর সরকার থেকে সরে দাঁড়ানোর পর দেশটি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। এই অচলাবস্থা থেকে বের হতে তাকাইচির নেতৃত্বে এলডিপি নতুন মিত্র খুঁজতে শুরু করে, এবং সেই প্রচেষ্টার ফলাফলই হচ্ছে জেআইপির সঙ্গে এই নতুন সমঝোতা।
জেআইপি পক্ষ থেকে জানা গেছে, দলটি আজ ওসাকায় নির্বাহী বোর্ডের বৈঠক করবে এবং সোমবার পার্লামেন্ট সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ সভায় এলডিপির সঙ্গে জোট গঠনের অনুমোদন দেবে। এরপরই তাকাইচি ও ইয়োশিমুরা আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ সরকার গঠনের ঘোষণা দিতে পারেন।
যদি সব পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তাহলে তাকাইচি মঙ্গলবারই জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হবেন। তবে জোটের দুই দল বর্তমানে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এখনো দুটি আসন দূরে। তাই ভোট যদি দ্বিতীয় দফায় যায়, তাকাইচিকে প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে বেশি পার্লামেন্ট সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, তাকাইচির রক্ষণশীল ভাবমূর্তি ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা তাঁকে এই চ্যালেঞ্জ পেরোতে সাহায্য করবে।
এই রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা এমন সময় ঘটছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপান সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (অ্যাপেক) সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে টোকিও সফরে আসবেন। তাই তাকাইচির সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীত্ব শুধু জাপানের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ একটি মুহূর্ত হয়ে উঠবে।
তথ্যসূত্র : আল–জাজিরা

