অনলাইন ডেস্ক : অন্টারিওর প্রধান চিকিৎসক ড. কিয়েরান মুর বলেছেন, প্রদেশের টিকাদান রেকর্ড সংরক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা এখন সময়ের দাবি। তার মতে, কানাডা জুড়ে একটি জাতীয় টিকাদান সূচি ও রেজিস্ট্রি থাকা প্রয়োজন, যাতে সা¤প্রতিক হাম রোগের পুনরুত্থানের মতো সংকট এড়ানো যায়। ড. মুরের বার্ষিক প্রতিবেদন স¤প্রতি প্রাদেশিক আইনসভায় দাখিল করা হয়েছে। এতে তিনি বলেছেন, ভ্যাকসিন-প্রতিরোধযোগ্য রোগের বিস্তার ঠেকাতে ফেডারেল, প্রাদেশিক এবং স্বাস্থ্য খাতের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। কারণ টিকার প্রতি অনীহা ও সংশয় এখন অনেক বেড়ে গেছে, আর করোনা মহামারির পর থেকে শিশুদের টিকাদানের হারও হ্রাস পেয়েছে।
কানাডার প্রতিটি প্রদেশ ও অঞ্চলের আলাদা টিকাদান সূচি এবং তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একটি জাতীয় টিকা রেজিস্ট্রির দাবি জানিয়ে আসছেন। কানাডিয়ান পেডিয়াট্রিক সোসাইটি ১৯৯৭ সাল থেকেই সারাদেশে সমন্বিত টিকাদান সূচি চালুর আহŸান জানাচ্ছে। মুর বলেছেন, অন্টারিও এ ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, কুইবেক, আলবার্টা, ম্যানিটোবা এবং নোভা স্কোশিয়া ইতিমধ্যেই তাদের টিকাদান রেকর্ড ডিজিটালাইজ করেছে। কিন্তু অন্টারিও এখনো খÐিত ও জটিল প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
বর্তমানে অন্টারিওতে টিকাদান রেকর্ড সংরক্ষণের জন্য তিনটি আলাদা তথ্যভাÐার রয়েছেÑ স্কুল ও চাইল্ডকেয়ার কেন্দ্রের রেকর্ড, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ডাটাবেজ এবং স্বাস্থ্যবীমা ও চিকিৎসকের অফিস/ফার্মেসি থেকে আসা রেকর্ড। এই বিচ্ছিন্ন তথ্য একত্রিত করা কঠিন হওয়ায় প্রায়ই একই রেকর্ড বারবার এন্ট্রি করতে হয়।
টরোন্টোর সহযোগী মেডিকেল অফিসার ড. বিনিতা দুবে বলেন, অভিভাবকেরাই শিশুদের টিকার তথ্য লিখিতভাবে স্কুলে জমা দেন। পরে স্কুল বোর্ড তা টরন্টো পাবলিক হেলথে পাঠায়, যেখানে তা হাতে হাতে সিস্টেমে প্রবেশ করানো হয়। এরপর টিকা না নেওয়া শিশুদের বাড়িতে চিঠি পাঠানো হয়। দুবের ভাষায়, “এটি অত্যন্ত ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া। আমাদের সিস্টেম অন্য অনেক সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত নয়।” ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কানাডায় টিকা গ্রহণে অভিভাবকদের সংশয় দ্বিগুণ হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ভ্যাকসিন কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। ড. মুর প্রতিবেদনে সতর্ক করেছেন, “ভ্যাকসিন প্রতিরোধযোগ্য রোগগুলো এখনও হুমকি। যদি আমরা অসতর্ক হই, এগুলো আবার ফিরে আসবে। সা¤প্রতিক হাম প্রাদুর্ভাবই তার প্রমাণ।”
ফেডারেল পাবলিক হেলথ এজেন্সি প্রদেশ ও অঞ্চলগুলোর টিকা রেজিস্ট্রি একত্রিত করে একটি নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ করছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ছয়টি প্রদেশ ও অঞ্চল (আলবার্টা, সাসকাচুয়ান, ম্যানিটোবা, নিউ ব্রান্সউইক, নোভা স্কোশিয়া ও ইউকন) তাদের টিকার তথ্য ফেডারেল সিস্টেমে জমা দিয়েছে।
অন্টারিও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, তারা রোগীদের জন্য একটি ডিজিটাল আইডেন্টিটি টুল চালু করার পরিকল্পনা করছে, যেখানে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যতথ্যের পাশাপাশি টিকাদান রেকর্ডও থাকবে। জাতীয় টিকাদান সূচি শুধু স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাবে না, অর্থনৈতিক সুবিধাও দেবে। কেন্দ্রীভ‚ত ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টিকা কম খরচে সংগ্রহ করা যাবে, পুনরায় টিকা দেওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং হাসপাতালের প্রতিরোধযোগ্য ভর্তি হ্রাস পাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম রোগের পুনরুত্থান দেখিয়ে দিয়েছে যে কানাডার বর্তমান খÐিত টিকা ব্যবস্থা কার্যকর নয়। অন্টারিওর প্রধান চিকিৎসক ড. মুর তাই প্রদেশের ডিজিটাল রেজিস্ট্রি আধুনিকায়ন এবং জাতীয় টিকাদান সূচি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছেন। এটি বাস্তবায়িত হলে জনগণকে সঠিক সময়ে টিকা দেওয়া সহজ হবে, স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতের মহামারি প্রতিরোধেও সহায়ক হবে। সূত্র : অন্টারিও থেকে সিবিসি

