অনলাইন ডেস্ক : গত ১৭ই আগস্ট শনিবার সকাল এগারোটা থেকে রাত্রি আটটা পর্যন্ত টেইলর ক্রিক পার্কে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের সংগঠন কানাডিয়ান এলামনাই এসোসিয়েশন রাজশাহী ইউনিভার্সিটি এর বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। প্রায় দুই শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিতে সেই সকাল থেকে রাত্রি অবধি উচ্ছলতা ও আনন্দ উদ্দীপনায় টেইল ক্রিক পার্কের সবুজ চত্বর মুখরিত হয়ে ওঠে। পার্কে প্রবেশ করতেই দেখা গেল চারদিকে অস্থায়ী তাঁবু। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন অনেকেই। পার্কের মধ্যে মাউথপিস হাতে মতিহার ক্যাম্পাসের নানা স্মৃতি নিয়ে চারণ গান করছেন মাসুদ। অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা তানভীর সুলতান অ্যাপোলো, মুস্তাফিজ খান, ফারজানা বেবী, জিল্লুর রহমান, নুরুল ইসলাম, আকতারুজামান স্বপন, মইন হোসেন ময়না, মনিরুজামান মনির, জাবেদ জুয়েল, ফরহাদ হোসেন, খাইরুল ইসলাম, আকতারুজামান প্রমুখ ব্যস্ত হয়ে ছোটাছুটি করছেন। এত বড় আয়োজনের আদর-আপ্যায়ন চাট্টিখানি কথা নয়। বড় বড় পাত্রে নানা পদের দুপুরের খাবার। খাবার শেষে দই, মিষ্টি পাশেই পান-সুপারি। একটু দূরে গরম দুধ-চা পরিবেশিত হচ্ছে।
মধ্যাহ্নের আহার পর্ব শেষে সবুজ পার্কে সবাই গোল হয়ে বসেছেন। টরন্টো শহরে প্রায় ২০ বছর আগে গঠিত কানাডিয়ান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব রাজশাহী ইউনিভার্সিটি বা সংক্ষেপে কারু সংগঠনটির নানা বিষয়ে কথা বলছেন এবং অংশগ্রহণকারীদের মতামত শুনছেন।
টরন্টোর টেইলর ক্রিক পার্কে গোল হয়ে বসে উদ্যোক্তাদের কথা শুনছেন পিকনিকে অংশগ্রহণকারিগন।
আনন্দ আবেগে দেখে মনে হচ্ছিল সকল ছাত্র-ছাত্রীরা যেন সেই মতিহার চত্বরে ফিরে গেছে। বহুদিন পর সাক্ষাতে একে অপরকে যেভাবে জড়িয়ে ধরেছিল গল্পে মশগুল হয়ে থেকেছিল, মনে হচ্ছিল অনেক গল্প জমে আছে এ যেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই চিরচেনা মতিহার চত্তর।
পিকনিকে আকর্ষণীয় বিষয় ছিল মনির ভাই চায়ের দোকান ও নাহিদ শরীফের পানের দোকান।
মনির ভাইয়ের চায়ের দোকানে জটলা সারাক্ষণ লেগেই ছিল কেউ কেউ বলছিলেন এ যেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ইবলিশ চত্বরকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে।
মজার মজার খাবার আর দিনভর হৈ হুল্লোড় খেলাধুলা ও গান-বাজনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের বার্ষিক পিকনিক।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শুরু হওয়া মিলনমেলা ছেড়ে যেতে কারও মন চায় না, তবু যেতে হয়। একসময় আসর ভেঙে যায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার ক্যাম্পাসের একসময়ের সুখস্মৃতি নিয়ে সবাই ঘরে ফিরে যান।

