অনলাইন ডেস্ক : ভারতের নয়া দিল্লিতে অবস্থিত হায়দ্রাবাদ হাউসে বৈঠকের আগে হাতে হাত রেখেছেন (বাম থেকে) ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন; ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬।
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যে চুক্তিকে দুপক্ষই ‘মহাচুক্তি’ (মাদার অব অল ডিলস) হিসেবে অভিহিত করেছে।
মঙ্গলবার ঘোষিত এই চুক্তিটি প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ ও ধারাবাহিক আলোচনার ফল। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট ভূ-অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই এই ঐকমত্যে পৌঁছাল দুই পক্ষ।
ভারত ও ২৭ জাতির এই ইইউ জোটের মধ্যকার চুক্তিটি প্রায় ২০০ কোটি মানুষের বাজারকে যুক্ত করেছে। এটি বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২৫ শতাংশ এবং যার সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ২৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা সোমবার নয়া দিল্লিতে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে সম্মানিত অতিথি হিসেবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যোগ দেন।
ভারত-ইইউ সম্মেলনের আগে মঙ্গলবার ভার্চ্যুয়ালি এক জ্বালানি সম্মেলনে মোদি বলেন, “এই চুক্তি ভারত ও ইউরোপের মানুষের জন্য বিশাল সুযোগ বয়ে আনবে।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে উরসুলা ফন ডার লিয়েন লিখেছেন, “ইউরোপ ও ভারত আজ ইতিহাস গড়ছে। আমরা ২০০ কোটি মানুষের একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল তৈরি করেছি, যা উভয় পক্ষকেই লাভবান করবে। আমরা আমাদের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে তুলব।”
এই চুক্তির ফলে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বিদ্যমান শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কিন্তু কী আছে এই চুক্তিতে? আর ট্রাম্পই বা একে কীভাবে নেবেন? রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় গত বছর ভারতের ওপর শাস্তিস্বরূপ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর ইইউ-ভারত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব চুক্তিতে সই করছেন; ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬।

