অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর–পূর্বাঞ্চলের শহর পাওটকেটে একটি আইস রিঙ্কে গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে গুলির শব্দে আতঙ্কিত কিশোরদের পালাতে দেখা যায়।
রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ওই এলাকার পুলিশপ্রধান টিনা গনকালভেস জানান, আমাদের মোট তিনজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন সন্দেহভাজন এবং দুজন ভুক্তভোগী। এ ছাড়া তিনজনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি লক্ষ্যভিত্তিক হামলা এবং এটি পারিবারিক বিরোধ থেকে হয়ে থাকতে পারে।
সোমবারের এই হামলাটি ঘটে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে মাত্র ৩.৫ মাইল (৫.৬ কিলোমিটার) দূরে। এ সময় আইস হকি খেলা চলছিল। এর দুই মাস আগেই ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গুলির শব্দ শোনা মাত্রই খেলোয়াড়, শিক্ষার্থী ও দর্শকরা আশ্রয়ের খোঁজে রিঙ্কের ভেতর ছুটোছুটি করছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘গুলির শব্দ শোনার পর আমি আর আমার সতীর্থরা দৌড়ে লকার রুমে ঢুকে পড়ি। আমরা দরজার পাশে গা চেপে ধরে নিরাপদ থাকার চেষ্টা করি।’ ভিডিও ফুটেজে অন্তত ১২টি গুলির শব্দ শোনা যায়, যা খেলাটির একটি লাইভস্ট্রিম থেকে ধারণ করা বলে মনে হচ্ছে। শুরুতে খেলাটি চলতে থাকলেও গুলির শব্দ বাড়তে থাকায় খেলোয়াড়রা পালাতে শুরু করেন। দর্শকদেরও মাথা নিচু করে আশ্রয় নিতে দেখা যায়।
নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশপ্রধান জানান, আহত তিনজনই “গুরুতর অবস্থায়” হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলা এখন খুবই নিয়মিত ঘটনা। দেশটিতে শিথিল অস্ত্র আইন থাকায় অস্ত্র পাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ।
গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৪০০টির বেশি জনসাধারণের ওপর গুলির ঘটনা ঘটেছে। এই সংস্থাটি এমন ঘটনাকে ‘গণ-গুলির ঘটনা’ বলে থাকে, যেখানে হামলাকারী ছাড়া চারজন বা তার বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ বা নিহত হন। গত বছর আত্মহত্যা বাদ দিয়ে বন্দুক সহিংসতায় অন্তত ১৪ হাজার ৭০৩ জনের প্রাণ গেছে দেশটিতে।
সূত্র: জিও নিউজ

