অনলাইন ডেস্ক : অটোয়া ও গ্যাটিনোর শত শত আন্দোলনকারী পার্লামেন্ট হিল এ জড়ো হয়ে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ‘ড্র দ্য লাইন’ শীর্ষক এই আন্দোলনের মূল দাবি- মানবাধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং চাকরি ও সরকারি সেবায় পরিকল্পিত ব্যয় সংকোচের সিদ্ধান্ত বাতিল করা। গত ২০শে সেপ্টেম্বর, শনিবারের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ইংরেজিতে “পিপল, পিস, প্লানেট, নট প্রফিট” লেখা একটি বিশাল দেয়ালচিত্র আঁকার পরিকল্পনা রয়েছে। মিছিলটি পার্লামেন্ট হিল থেকে মার্কিন দূতাবাস হয়ে এলগিন স্ট্রিটের মানবাধিকার স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত মার্চ করে।
অটোয়ার ওয়েলিংটন স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এই প্রতিবাদে অংশ নিয়েছে জলবায়ু ন্যায্যতা, অভিবাসী অধিকার, আদিবাসী সার্বভৌমত্ব, শ্রমিক অধিকার, যুদ্ধবিরোধী এবং ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলনের সংগঠনগুলো। একই সঙ্গে কানাডার বিভিন্ন শহর—ভ্যাঙ্কুভার, এডমন্টন, সাসকাটুন, উইনিপেগ, টরন্টো, মন্ট্রিয়ল ও শার্লটটাউনেও সমান্তরাল মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, এই প্রতিবাদ নতুন সংসদ অধিবেশন ও আসন্ন শরৎকালীন বাজেটের প্রাক্কালে আয়োজিত, যাতে প্রধানমন্ত্রী কার্নির প্রস্তাবিত ব্যয় সংকোচ, ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স বাতিল এবং বিতর্কিত বিল সি-২ ও সি-৫ এর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা যায়। বিশেষত, বিল সি-২ সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়াতে ডাকপত্র তল্লাশি, ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং অভিবাসন আবেদন স্থগিত করার ক্ষমতা বাড়াবে। আর বিল সি-৫ বড় প্রকল্পের অনুমোদন দ্রæত করতে চাইলেও আদিবাসী ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, এতে আদিবাসী অধিকার ও পরিবেশ সুরক্ষা উপেক্ষিত হবে।
ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার অটোয়ার সংগঠক সারা ওয়াশবার্ন বলেন, “আমরা ঔপনিবেশিকতা, জলবায়ু ধ্বংস, সামরিকবাদ ও ব্যয় সংকোচের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছি। আমরা এমন ভবিষ্যৎ চাই যেখানে মানুষ থাকবে মুনাফার আগে।”
আন্দোলনের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অতিধনীদের ওপর কর বাড়ানো, জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পে কর্পোরেট ভর্তুকি বন্ধ, আদিবাসী অধিকার ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দ্বিপাক্ষিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাতিল, সরকারি চাকরি ও সেবায় কাটছাঁট বন্ধ, অভিবাসীদের স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা প্রদান।
‘সেক্রেড আর্থ’ সংগঠনের পরিচালক সেরিনা মেন্ডিজাবাল বলেন, “কার্নি সরকার আদিবাসী জনগণ ও ভ‚খণ্ডকে আবারও প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের নামে ত্যাজ্য করে চলেছে। অভিবাসী, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষও পুঁজিবাদ, ঔপনিবেশিকতা ও সাম্রাজ্যবাদের নানা রূপে ক্ষতিগ্রস্ত—এখনই সময় একত্রিত হওয়ার।”
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী কার্নি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমেই কার্বন ট্যাক্স বাতিল করেন এবং পরে ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স স্থগিত করেন, যা মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপর কর আরোপ করত। এই সিদ্ধান্তকে অনেকে “ট্রাম্পের কাছে নতি স্বীকার” বলেও অভিহিত করেছেন। সরকার আগামী তিন বছরে ২৫ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি চাকরি ও সেবায় কাটছাঁটের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা অটোয়ার মতো শহরে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছে। একই সময়ে সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপির ৫ শতাংশে পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তবে ইসরায়েলের সা¤প্রতিক হামলার বিষয়ে কার্নি সরকার কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছে এবং গাজা শহরে বোমা বর্ষণের ঘটনাকে “ভয়াবহ” বলে অভিহিত করেছে। তিনি জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতির পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন, যদিও তার সঙ্গে ‘নিরস্ত্রীকরণ’ শর্ত যুক্ত থাকায় সমালোচনা রয়েছে।

