হেলাল সরকার : ৮ মার্চ’২৬ রবিবার টরন্টোর বায়তুল আমান জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরন্টো কর্তৃক আয়োজিত বার্ষিক ইফতার’২৬, কুরআনের হাফিজদের সম্মাননা ও দোয়া মাহফিল। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও টরন্টোতে বসবাসরত বৃহত্তর জালালাবাদবাসীসহ বাঙালি কমিউনিটির অসংখ্য মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন। হাসান তারেক ইমাম, প্রচার সম্পাদক জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরন্টো, কানাডা এর সাথে কথোপকথনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানা যায়। তিনি জানান, সংগঠনের সভাপতি মাহবুব চৌধুরী (রনি) ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী শরীফ মারুফ উপস্থিত সবাইকে ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। শত শত ধর্মপ্রাণ মুসলমানের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয় এবারের আয়োজন।

পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য ও গুরুত্ব নিয়ে বিশেষ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, মাওলানা ফারুক আহমেদ এবং হাফিজ সাঈদ আহমেদ। বক্তারা তাদের আলোচনায় রমজানের শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং কুরআনের আলোকে জীবন গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে ১৯ জন কুরআনের হাফিজকে সম্মাননাসূচক পাগড়ি ও সনদ প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। এ সময় হাফিজগণ সুমধুর কণ্ঠে পবিত্র কুরআন থেকে কেরাত পাঠ করেন, যা উপস্থিত মুসল্লিদের হৃদয় গভীরভাবে স্পর্শ করে এবং মাহফিলের পরিবেশকে আরও আধ্যাত্মিক ও প্রশান্তিময় করে তোলে।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন, একজন হাফিজে কুরআন হওয়া ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও গৌরবের বিষয়। কুরআন হিফজ করা মানে শুধু আয়াত মুখস্থ করা নয়, বরং আল্লাহর বাণীকে হৃদয়ে ধারণ করা এবং সেই অনুযায়ী জীবন পরিচালনার চেষ্টা করা। ইসলামী ঐতিহ্যে বর্ণিত আছে যে কিয়ামতের দিন কুরআনের হাফিজ এবং তাদের পিতা-মাতা বিশেষ সম্মান লাভ করবেন। তাই সন্তানদের কুরআন শিক্ষায় উৎসাহিত করা এবং হিফজে উদ্বুদ্ধ করা মুসলিম সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। ইফতার মাহফিলের সার্বিক তত্ত¡াবধানে ছিলেন আহŸায়ক হাবিবুর রহমান চৌধুরী (মারুফ), যুগ্ম আহŸায়ক নাহিদ আহমেদ এবং সদস্য সচিব মনসুর আহমেদ। কুরআনের হাফিজদের সম্মাননা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরন্টোর অর্থ সম্পাদক ফারুক আহমেদ।

এছাড়াও মাহফিলটি সফল করার পেছনে যারা অক্লান্ত শ্রম দিয়েছেন তাদের মধ্যে ছিলেন- মোঃ মকবুল হোসেন (মঞ্জু), হোসেন আহমেদ (লনি), স্বর্ণালী মুক্তা, ফজলুল করিম, আসজাদ বখত চৌধুরী, এজাজ চৌধুরী, আবু জহির শাকিব, রাসেল আহমেদ, মনসুর আহমেদ, আব্দুস সালাম, ফারুক আহমেদ, হাসান তারেক ইমাম (তানিম), সঞ্জীব রায়, তাফাসিন চৌধুরী, আলী হোসেন, জুয়েল আহমেদ, নাহিদ আহমেদ, জাহানারা নাসিমা, তাহমিনা চৌধুরী, মির্জা রিফ্ফাত নূয়েরীন, নাঈম চৌধুরী, মেহেদী চৌধুরী, ইলিয়াছ খান, বিবেক সেন, কাশেম আহমেদ (জয়), তাসনিম, শিপন, আল-আমিনসহ আরও অনেকে। এই আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য ভলান্টিয়ারবৃন্দ এবং ঢাকা থাই অ্যান্ড গ্রিল রেস্টুরেন্টকে সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়। বিপুল সংখ্যক রোজাদার মুমিনের অংশগ্রহণে আয়োজনটি ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ইফতার মাহফিলে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনের সাবেক এমপিপি ডলি বেগম, সিটি কাউন্সিলর পার্থী কান্দাভেল, রাজনীতিবিদ মুর্শেদ নিজাম সিপিএ, আহসানুল হাফিজ, ব্যারিস্টার আরিফ হোসেন, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আহাদ খন্দকার ও ছাদ চৌধুরী, মিজান চৌধুরী, এসোসিয়েশনের ট্রাস্টি সৈয়দ আব্দুল হামিদ, মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, বাবলু চৌধুরী, বিয়ানীবাজার এসোসিয়েশনের সভাপতি শরফুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি আব্দুল মুমিত, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান শরীফ, মৌলভীবাজার এসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মাহবুব, হবিগঞ্জ এসোসিয়েশনের সভাপতি ইমরুল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কয়েস আহমেদসহ, এবাদ চৌধুরী টরন্টোর বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পরিশেষে সংগঠনের ধর্ম সম্পাদক হাবিবুর রহমান চৌধুরী উপস্থিত সবাইকে ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণের জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
This article was written by Md Helal Uddin Sarker as part of the LJI.

