হেলাল সরকার : গত ২০ শে সেপ্টেম্বর, শনিবার বিপুল উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম সমিতি কানাডার ‘চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান’ অনুষ্ঠিত হল ৩৭৪ ডেনফোর্থ রোডস্থিত ‘সুন্নাতুল জামাত মসজিদের’ হলরুমে।

চট্টগ্রামের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য হল মেজবান। মেজবান ফরাসী শব্দ যার অর্থ হল আতিথেয়তা বা মেহমানদারি। ঐতিহ্যগতভাবে চট্টগ্রামবাসী অত্যন্ত অতিথি পরায়ণ।

মেহমানদারি বা অতিথিদের জন্য বিশেষ ভোজের ব্যবস্থা করাই হচ্ছে মেজবান। কয়েক শতক ধরে চলে আসা মেজবানির ঐতিহ্য এখনো পর্যন্ত ধরে রেখেছে চট্টগ্রাম। বিশেষ করে গত কয়েক দশকে চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে মেজবান সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি বর্তমানে এই মেজবান দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রবাসেও পৌঁছে গেছে। তারই অংশ হিসাবে কানাডায় চট্টগ্রাম সমিতি গত তিন বৎসরের সফল মেজবানি আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবারও মেজবানির আয়োজন করেছে।

মেজবানি অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে সমিতির সভাপতি মঞ্জুর চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন আমন্ত্রিতদেরকে স্বাগত জানিয়ে ইহার আয়োজন ও উদ্দেশ্য সকলকে অবহিত করেন। খাবার পরিবেশনের পূর্বে দোয়া পাঠান্তরে মুনাজাত করা হয়। মেজবানির চিরাচরিত রেওয়াজনুযায়ী সাদা ভাতের সাথে সুস্বাদু গরুর মাংস ও বুটের ডাল পরিবেশনের মাধ্যমে প্রায় তিন সহস্রাধিক মেহমানকে আপ্যায়ন করা হয়। পাশাপাশি অন্যান্য স¤প্রদায়ের জন্য ছিল খাসির মাংস। দুপুর ১২:০০ থেকে বিকাল ৪:০০ পর্যন্ত আমন্ত্রিতদের খাবার পরিবেশন করে এক-ঝাঁক উদ্যমী সমিতির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ।

সুশৃঙ্খলভাবে সকলে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার সংগ্রহ করে। আমন্ত্রিতদের সকলেই সুস্বাদু খাবার ও বিশাল আয়োজনের প্রশংসা করেন। চট্টগ্রামবাসীর পাশপাশি অন্যান্য অঞ্চলের মানুষেরও উপস্থিতিতে মেজবান অনুষ্ঠানটি যেন এক বিশাল মিলন মেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি লগ্নে সভাপতি যারা আর্থিক সহযোগিতা করেছেন এবং শ্রম দিয়ে মেজবানির এই আয়োজনকে সফল ও সার্থক করেছেন সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সকলের সহযোগিতায় মেজবানির এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।


আহবায়ক শাহেদ তাহের, সহ- আহবায়ক-দ্বয় শেখ জসিম উদ্দিন, প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম, সদস্য সচিব শোয়েব খান, সহ- সদস্য সচিব-দ্বয় তানভি হক ও সেকান্দর আলীসহ যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে মেজবানির এই বিশাল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে তারা হলেন, মাহবুবুল ইসলাম চৌধুরী, ওসমান কাজী, এমদাদ চৌধুরী, আমিন চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান, তারেক চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম, রোকনুজ্জামান, কাজী সাজ্জাদ চৌধুরী, মিনহাজুল আবেদীন, মোঃ হাবিবুল্লাহ, দুলাল, ওয়াসিম বাকী, কুতুবউদ্দিন, জেবুন নাহার। খাবার পরিবেশনা ও অন্যান্য সহযোগিতায় ছিলেন আসকিন সিদ্দিকী, জামাল উদ্দিন, ওয়াসিম, রুবেল, জামশেদ, রুপন দাশগুপ্ত, পুজন দাশ, শামসাদ, মোঃ ইসলাম, ফাহাদ, শিয়াম, ইরফান, ফারহন, আয়ান, প্রিন্স ও আরও অনেকেই।

