অনলাইন ডেস্ক : ফেডারেল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর কানাডা জুড়ে ওপিওইডের (আফিম-সদৃশ ঔষধ বা ব্যথানাশক ঔষধ) কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ১৭ শতাংশ কমেছে। তবে নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হ্রাস দেশের সর্বত্র সমানভাবে ঘটেনি।
কানাডার জনস্বাস্থ্য সংস্থা প্রকাশিত সা¤প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে গড়ে প্রতিদিন ২০ জন ওপিওইড টক্সিসিটিতে মারা গেছেন। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রতিদিন ২২ জন। গত বছরের ভয়াবহ মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭,১৪৬। বৃহস্পতিবার কানাডিয়ান সেন্টার অন সাবস্ট্যান্স ইউজ অ্যান্ড অ্যাডিকশন (সিসিএসএ) জানায়, এই দৃশ্যমান হ্রাস সত্তে¡ও, বিষাক্ত মাদক সরবরাহের কারণে ওপিওইডে মৃত্যুর সংখ্যা এখনো অত্যন্ত বেশি। অনেক জায়গায় মৃত্যুহার কেন কমছে তা স্পষ্ট নয়, যদিও সিসিএসএ উল্লেখ করেছে যে কিছু নমুনায় শক্তিশালী কারফেন্টানিল কম পাওয়া গেছে এবং মানুষ ইনজেকশনের বদলে ইনহেলেশনের দিকে ঝুঁকেছে। অটোয়ায় সিসিএসএ -এর গবেষণা ও নীতি বিশ্লেষক সামান্থা কিং বলেন, এই হ্রাস কিছুটা আশাব্যঞ্জক হলেও, মৃত্যুহার এখনো ২০১৬ সালের তুলনায় অনেক বেশি, যখন ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ওপিওইড-সম্পর্কিত ওভারডোজ মৃত্যুকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল।
এক সাক্ষাৎকারে কিং বলেন, “হরম রিডাকশন বা চিকিৎসায় সম্পদ বরাদ্দ কমানোর এখনো সময় আসেনি।” ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, আলবার্টা, সাস্কাচেওয়ান, ম্যানিটোবা, অন্টারিও, নিউ ব্রান্সউইক এবং ইউকনে নিশ্চিত না হওয়া ওপিওইড মৃত্যুর ক্ষেত্রে সামগ্রিক হ্রাস দেখা গেছে।
কিন্তু কুইবেক, নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর এবং নর্থওয়েস্ট টেরিটরিজে ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালে ওপিওইড-সম্পর্কিত মৃত্যু বেড়েছে। কিং বলেন, নোভা স্কোশিয়া ও প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ডে পরিস্থিতি মূলত অপরিবর্তিত রয়েছে। টরন্টোর স্ট্রিট হেলথ ২০১৮ সাল থেকে একটি ছোট তত্ত¡াবধানে পরিচালিত ব্যবহার কেন্দ্র চালাচ্ছে।
“আমরা এখনো এই দেশে হাজার হাজার মানুষকে প্রতিরোধযোগ্য কারণে মারা যেতে দেখছি। আর এটাকে স্বাভাবিক ভান করতে আমার মোটেই স্বস্তি লাগে না,” বলেন কেলি হোয়াইট, সংস্থাটির হরম রিডাকশন প্রোগ্রামের ম্যানেজার। হোয়াইট জানান, তাদের ক্লায়েন্টরা মূলত রাস্তার ড্রাগ সরবরাহকারীদের দয়ায় নির্ভরশীল, যা সময়ে সময়ে বদলায় এবং এর সঙ্গে ওভারডোজ মৃত্যুর ওঠানামা ঘটে।
হোয়াইট বলেন, ফেন্টানিল ও শক্তিশালী কারফেন্টানিলের মতো ওপিওইড হয়তো এখন কম প্রচলিত। কিন্তু এখন সরবরাহে ওপিওইডের সঙ্গে আরও বেশি প্রাণী-নিরামিষক, যা ‘ট্র্যাঙ্ক’ নামে পরিচিত, মেশানো হচ্ছে।
হোয়াইট আরও জানান, জাইলাজিন ও মেডেটোমিডিনের মতো প্রাণী-নিরামিষক ফেন্টানিলের মতো শ্বাস-প্রশ্বাসে তেমন প্রভাব না ফেললেও, এগুলো মানুষের হৃদস্পন্দন মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিতে পারে এবং গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে।
আসক্তি বিশেষজ্ঞ ড. মন্টি ঘোষ বলেন, তিনি উদ্বিগ্ন যে কানাডা হয়তো ওপিওইড ওভারডোজ মৃত্যুর একধরনের স্থবির অবস্থায় পৌঁছেছে।
“যারা মৃত্যুর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ছিলেন, তারা ইতিমধ্যেই মারা গেছেনÑ এটা এক ভয়াবহ ও ভীতিকর বাস্তবতা,” বলেন ঘোষ, যিনি আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যালগারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক।
তিনি বলেন, একটি বহুমুখী পদ্ধতির প্রয়োজন।
ঘোষ বলেন, “একদিন মানুষ চিকিৎসা ও চিকিৎসা সহায়তার জন্য প্রস্তুত থাকে এবং তখনই তাদের চিকিৎসার সুযোগ দিতে হয়। পরের দিন তারা আবার মাদক গ্রহণে ফিরে যেতে পারে, সেই অবস্থায় হরম রিডাকশনের সহায়তা দিতে হয় যাতে তারা ওভারডোজে মারা না যায়।”
ঘোষ বলেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, নতুন মাদক কার্টেলের বাজারে প্রবেশ ও মাদকযুদ্ধের কারণে ড্রাগ সরবরাহ প্রায়ই পরিবর্তিত হয়।
টরন্টোর সেন্ট মাইকেলস হাসপাতালের সেন্টার অন ড্রাগ পলিসি ইভ্যালুয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ড্যান ওয়ার্ব ওপিওইড ওভারডোজ মৃত্যুর হ্রাসকে ড্রাগ পাচারকারী সংগঠনগুলোর “রেসিপি বদলানো”-র ফল বলে উল্লেখ করেছেন।
ওয়ার্ব বলেন, “ড্রাগ ওভারডোজ মৃত্যুর হার কমতে দেখে আমি খুশি। তবে একই সঙ্গে হতাশাজনক যে, এই প্রজন্মকে সংজ্ঞায়িত করে এমন স্বাস্থ্য সংকটের ১০–১৫ বছর পরও আমরা এখনো মানুষের জীবন-মৃত্যু নির্ধারণে ড্রাগ পাচারকারী সংগঠনগুলোর ওপর নির্ভর করছি।” সূত্র : সিবিসি নিউজ

