অনলাইন ডেস্ক : শুধু রাশিয়া কিংবা ভেনেজুয়েলা নয়, ইরানের তেলের দিকেও নজর রয়েছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। আগেও ইরানের তেল রপ্তানি কমাতে অন্য দেশগুলির উপরে ‘চাপ’ দিয়েছেন তিনি। এ বার সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে চলেছেন। আমেরিকার সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, এই বিষয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ট্রাম্পের সঙ্গে একমত।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে আমেরিকা সফরে যান নেতানিয়াহু। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানেই চীনে তেল রপ্তানি কমানোর জন্য ইরানের উপরে চাপ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন তারা। মার্কিন দুই কর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে এই খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস। আমেরিকা এ বার চীনের উপরেও পরোক্ষে চাপ তৈরির কৌশল নিচ্ছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলার-এর ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, চীনই ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। সমুদ্রপথে ইরানের রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশই গিয়ে ভেড়ে বেইজিংয়ের সমুদ্র বন্দরে। পরিসংখ্যান থেকে জানা যাচ্ছে, গত বছর ইরানের থেকে ১৩.৮ লক্ষ ব্যারেল তেল আমদানি করেছেন শি জিনপিং। যা চীনের মোট সমুদ্রপথে তেল আমদানির ১৩ শতাংশ।
ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল আমেরিকা। শুধু তাই নয়, মস্কো থেকে তেল আমদানি করায় ট্যারিফ পর্যন্ত চাপানো হয়। ট্রাম্পের দাবি ছিল, তেল বিক্রির টাকাতেই ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতেও তেল বিক্রি বন্ধ করতে চাইছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।
চীন অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য সম্পূর্ণ আইনসঙ্গত। কোনও দেশেরই হস্তক্ষেপ করার জায়গা নেই। একই সঙ্গে তারা এও জানিয়েছে যে, ২০২২-এর মাঝামাঝির পরে থেকে সরকারি ভাবে ইরান থেকে তেল আমদানির কোনও রেকর্ড চীনের শুল্ক দপ্তরের কাছে নেই। তবে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-এর দাবি, অনেক সময়ে ইরানের তেল তৃতীয় দেশ মারফত চীনে ঢোকে। ফলে, সেটাকে মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার তেল হিসেবে দেখানো বেইজিংয়ের কাছে সহজ হয়ে যায়।

