অনলাইন ডেস্ক : এবারই প্রথম কোন চন্দ্র অভিযানে গিয়েছেন একজন কানাডিয়ান নভোচারী। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তার সঙ্গে সরাসরি কথা বললেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।
আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীদের সঙ্গে বুধবার কথা বলেন কার্নি। এমন অর্জন ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে উত্তেজনা।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্ক কিছুটা তিক্ত হয়ে আছে। তাই এত টানাপড়েনের মাঝেও এই ঘটনাকে অনেকেই দেখছেন এক স্বস্তির মুহূর্ত হিসেবে।
৫০ বছর বয়সী জেরেমি হ্যানসেন রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্সের কর্নেল। তিনিই হলেন সেই কানাডিয়ান নভোচারী, যিনি তিনজন মার্কিন নভোচারীর সঙ্গে নাসার আর্টেমিস-২ মিশনে অংশ নিয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এটি মূলত একটি ফ্লাইবাই মিশন। ২০২৮ সালের মধ্যে আবার মানুষকে চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এটি। ১০ দিনের এই মিশন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে শুক্রবার। মহাকাশ ক্যাপসুলটি সান ডিয়েগোর কাছে সাগরে অবতরণ করবে।
নভোচারীদের উদ্দেশে কার্নি বলেন, ‘এই অভিযান নিয়ে পুরো কানাডা গর্বিত। বিশেষ করে আপনার জন্য (জেরেমি হ্যানসেন) আমরা সবাই ভীষণ গর্ব অনুভব করছি।’
এর মধ্যেই একটি মজার ঘটনা ভাইরাল হয়। ক্যাপসুলের ভেতরে মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে নুটেলার একটি জার ভাসতে দেখা যায়। এ নিয়ে রসিকতাও করেন কার্নি।
তিনি বলেন, ‘কানাডিয়ানরা অবশ্য সকালের প্যানকেকে নুটেলার চেয়ে ম্যাপেল সিরাপই বেশি পছন্দ করে। উল্লেখ্য যে, ম্যাপেল পাতা কানাডার জাতীয় প্রতীক।’
জেরেমি হ্যানসেন আরো জানান, তিনি মহাকাশে একটি কানাডিয়ান পতাকা নিয়ে গেছেন এবং ফিরে গিয়ে সেটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেবেন। তিনি ২০০৯ সালে নভোচারী হিসেবে নির্বাচিত হন এবং তার এই মিশনটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দীর্ঘদিনের মহাকাশ সহযোগিতার প্রতিফলন।
ঝুঁকি নেওয়ার বিষয়েও কথা বলেন হ্যানসেন। তিনি বলেন, ‘একটি দেশের উন্নতির জন্য ঝুঁকি নেওয়া এবং ব্যর্থতাকে মেনে নেওয়া জরুরি। ব্যর্থতা আসতে পারে, কিন্তু তাতে থেমে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়াই আসল সাফল্য। এসময় তিনি কানাডার স্কুলশিক্ষার্থীদের প্রশ্নেরও উত্তর দেন।’
এই মিশনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে কিছু রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ট্রাম্প কানাডার পণ্যে শুল্ক বাড়িয়েছেন। এমনকি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার বারবার পরামর্শও দিয়েছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা, বৈশ্বিক বাণিজ্য টানাপোড়েন এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতা।
সব মিলিয়ে বেশ চাপের মধ্যেই চলছে এই চন্দ্রাভিযান। তবুও, এই যৌথ মহাকাশ অভিযান উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

